দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) জাহাজ থেকে টার্মিনালে খালাস করতে না পারায় দেশে আবারও গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। গতকাল থেকে সরবরাহ কমতে শুরু করায় মঙ্গলবার সারাদেশে গ্যাস সংকট এবং তীব্র লোডশেডিং আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত দুই সপ্তাহ পর এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বেড়িছিল। চার দিনের মাথায় আবারও দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানি করে আসা কার্গো জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস–সংকট। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি। গতকাল সোমবার বিকেলে মহাখালীর ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে
চলমান সংকটের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ আবার কমেছে। এর আগে দুই সপ্তাহ পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ গত বৃহস্পতিবার কিছুটা বাড়লেও গতকাল সোমবার আবার কমতে শুরু করেছে। এতে আজ মঙ্গলবার সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানি করে আসা জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ কমে গেছে। সমুদ্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামীকাল বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেন, এলএনজির কার্গো (জাহাজ) পাশেই আছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য টার্মিনালে নেওয়া যায়নি। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর টানা চার দিন সক্ষমতার বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে সামিটের টার্মিনাল। দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছে তারা। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হয়। তবে মাত্র চার দিনের মাথায় আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।
কে